বাংলাদেশে বর্তমানে করোনা সংক্রমণ বেশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সারাদেশে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। আর চলমান এই পরিস্থিতির মাঝেই আসছে ত্যাগের মহিমায় ভাস্মর পবিত্র ঈদুল আযহা।  

এবারের কোরবানির ঈদ অন্য সকল বছরের থেকে আলাদা। একদিকে করোনার কারণে অনেকটা গৃহবন্দী জীবন কাটাচ্ছে দেশবাসী অন্যদিকে কোরবানি ঈদের মূল কার্যক্রম চলে ঘরের বাইরে ও গরুর হাটে। কোরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে মাংস প্রক্রিয়াজাত করার বড় অংশই করতে হয় ঘরের বাইরে। তাই সঙ্গত কারণেই এবারের কোরবানি ঈদ, সচেতনতার সাথে কিভাবে পালন করবেন তা জানা জরুরী। 

কোরবানির পশু কিভাবে কিনবেন? 

এবার ঢাকাসহ সারাদেশে কোরবানির হাট বসবে খুবই সীমিত আকারে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় এই ধরণের সংবাদই দেখা গিয়েছে। তাই কোরবানির পশু কিভাবে কিনবেন তা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। তবে আশার কথা হচ্ছে, অনলাইনে এবার বেশ প্রচারনা চলছে কোরবানির পশু বিক্রির ব্যাপারে। বাংলাদেশ সরকারের ডিএনসিসি ডিজিটাল হাটের ওয়েবসাইটে (https://digitalhaat.net/) গিয়েও আপনি কোরবানির পশু কিনতে পারবেন। এছাড়াও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালেও কোরবানির পশু কেনা যাবে।

হাটে যেতে সতর্কতা 

করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে এবার গরুর হাটে না যাওয়াই উত্তম। আর যদি যেতেই হয় সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে হবে। মুখে মাস্ক, ফেস শিল্ড ও হাতে গ্লাভস অবশ্যই পড়তে হবে এবং নিরাপদ দূরত্ব রেখে চলতে হবে। পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তিদের কোনভাবেই হাটে যাওয়া উচিৎ নয়। 

কোরবানির পশু কিভাবে বাড়িতে রাখবেন? 

হাট থেকে কিংবা অনলাইনে, যেভাবেই কোরবানির পশু কিনে থাকেন না কেন, তা বাড়িতে নিয়ে আসার পর রাখতে হবে খুব সতর্কভাবে। লক্ষ রাখতে হবে বাড়ির অন্য কোন বাসিন্দা যাতে কোরবানির পশুর শরীরে যখনতখন হাত না দেয় এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির পশুকে খাওয়াতে হবে। 

কসাই নির্বাচন ও স্বাস্থ্যবিধি

যে কসাইকে দিয়ে কোরবানির পশু কাটাবেন, সে সুস্থ কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিবেন। এছাড়াও কোরবানির পশু কাটার পূর্বে সকলের হাত অবশ্যই স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। 

কোরবানীর পশুর চামড়া ছাড়ানো নিয়ে নির্দেশনা

বরাবরের মতো করেই এবার কোরবানির পশুর চামড়া ছাড়াবেন, তবে যেহেতু করোনা দুর্যোগ চলছে তাই স্বাভাবিকের চেয়ে নিতে হবে বাড়তি সতর্কতা। এই ঈদে কোরবানীর পশুর চামড়া ছাড়ানো এবং সংরক্ষণে প্রাথমিকভাবে কি করণীয় সে সম্পর্কে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করা উত্তম হবে।

নির্দেশনা অনুসরণ করতে লিংকে ক্লিক করুনঃ https://bit.ly/38RB8Ui

মাংস সংরক্ষণে সতর্কতা

এবার কোরবানির ঈদে পশুর মাংস সংরক্ষণে মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। মাংস কাটার সময়ই তা আলাদা করে প্যাকেটে ভরে ফেলতে হবে। এরপর পানিতে ভালো করে ধুয়ে ফ্রিজে রাখতে হবে। যিনি মাংস সংরক্ষনের কাজে নিয়োজিত থাকবেন তাকে কাজ শেষ হলে, হাত সাবান দিয়ে ধুতে হবে। 

চারপাশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা 

কোরবানির সমস্ত কাজ শেষ হলে চারপাশ দ্রুত পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। আবর্জনা মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে সিটি কর্পোরেশনকে সাহায্য করতে হবে। 

করোনা বিস্তার প্রতিরোধে উপরোক্ত নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি এবার ঈদে বাইরে ঘোরাঘুরি না করে প্রিয়জনের সাথে ঘরে থাকাই উত্তম। 

জনসচেতনতায় জিম ডিজিটাল ট্রাক। 

তথ্যসূত্রঃ গণমাধ্যম, সিটি কর্পোরেশন ওয়েবসাইট ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।