প্রতিবেশি দেশ ভারতকে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দিতে প্রস্তুত রয়েছে দেশের বৃহত্তম চট্টগ্রাম বন্দর। জানুয়ারি মাসেই দুই দফা পরীক্ষামূলক কার্জক্রম হবে ট্রান্সশিপমেন্ট নিয়ে। তবে ভারতীয় জাহাজকে বার্থিংয়ে অগ্রাধিকার বা বিশেষ এলাকা দেয়া হবে কিনা তা নির্ভর করছে চুক্তির ওপর।

বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল ‍জুলফিকার আজিজ বলেছেন, “এ মাসেই দুই দফা পরীক্ষামূলক ট্রায়াল রান ট্রান্সশিপমেন্ট হবে।” গত মঙ্গলবার দুপুরে বন্দর ভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, “বন্দরের পক্ষ থেকে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। আমাদের যথেষ্ট সক্ষমতা আছে। যদি জাহাজ আসে আমরা তার সেবা দিতে পারব। 

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য মো: জাফর আলম, কমডোর এম শফিউল বারী, ক্যাপ্টেন মহিদুল হাসান, পরিচালক (প্রশাসন) মমিনুর রশীদ, সচিব মো: ওমর ফারুক, পরিচালক (পরিবহন) মো: এনামুল করিম প্রমুখ। আরও জানা যায়, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেয়া বা স্পেশাল এরিয়া থাকবে কিনা সেটা নির্ভর করবে চুক্তির উপর। জানুয়ারি মাসেই দু’টি ট্রায়াল রান হবে চট্টগ্রাম বন্দর ও কোলকাতা বন্দরের মধ্যে। 

আমাদের বন্দর আরও সম্প্রসারণ হবে কিনা সে বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, “ মূলত ২০১৩ সালে একটি স্ট্র্যাটেজিক মাস্টারপ্ল্যান করা হয়। সেটা পরবর্তী ৩০ বছরের জন্য অর্থাৎ ২০৪৩ সাল পর্যন্ত। তখন কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ১৪ মিলিয়ন টিইইউএস (টোয়েন্টিফিট ইক্যুভেলেন্ট ইউনিট, প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কন্টেইনার) হবে। 

বে-টার্মিনালের বিষয়ে জনাব জুলফিকার আজিজ জানান, “২০২৫ সালের মধ্যে বে-টার্মিনালে দেড় হাজার মিটার মাল্টিপারপাস টার্মিনাল এবং ১২২৫ ও ৮৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ চলছে।  এখন জোয়ারের সময় গড়ে চার ঘণ্টায় সাড়ে নয় মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচে থাকা অংশের গভীরতা) ও সর্বোচ্চ ১৯০ মিটির দৈর্ঘ্যের জাহাজ দিন-রাত ভিড়ানোর সুযোগ থাকবে।” 

আমাদের চট্টগ্রাম বন্দরকে আরও সম্প্রসারণে ব্যাপারে বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে বন্দর চেয়ারম্যান জানান, গড়ে প্রতি বছরে সাড়ে চার লাখ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এর লক্ষ্যে নির্মিতব্য পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) প্রায় ৫২ শতাংশ কাঠামো সম্পন্ন হয়েছে।  এখানে ছয়শ মিটার জেটিতে ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফটের তিনটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ এবং ২২০ মিটার দৈর্ঘ্যের ডলফিন জেটিতে একটি তেলবাহী জাহাজ ভিড়বে। ব্যাকআপ ইয়ার্ড থাকবে প্রায় ১৬ একর, যেখানে সাড়ে চার হাজার টিইইউএস কন্টেইনার ধারণক্ষমতা থাকবে। 

২০১৮ সাল থেকে ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। চলতি বছরে আশা করা যাচ্ছে এই প্রবৃদ্ধির হার আরও বাড়বে। 

তথ্যসূত্রঃ দৈনিক নয়া দিগন্ত, বিডি নিউজ২৪.কম ও ঢাকা টাইমস২৪.কম। 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।