জিপিএস ট্র্যাকার সাম্প্রতিক সময় ট্রাক ইন্ডাস্ট্রিতে বহুল আলোচিত বিষয়। পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং পরিবহন খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য ট্রাকে জিপিএস ট্র্যাকার থাকা এখন অনেকটা আবশ্যক। 

জিপিএস ট্র্যাকার মূলত গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস–নির্ভর যন্ত্র। এতে মোবাইল ফোনের মতো সিম ব্যবহার করা হয়। জিপিএসের অন্তর্ভুক্ত ৩২টি কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের মাইক্রোওয়েভ সংকেত আদান–প্রদান করে এই যন্ত্র কাজ করে।

জিপিএস ট্র্যাকারটি দেখতে চারকোনা বা আয়তাকার বাক্সের মতো। এর এক প্রান্তে কয়েকটি তারের অগ্রভাগে কানেক্টর সুইচ থাকে। এই সুইচগুলো গাড়ির সঙ্গে যুক্ত করে গাড়ির অবস্থান অনুসরণ (ট্র্যাকিং) করা হয়। যন্ত্রের মধ্যে থাকে সিম কার্ড স্লট ও সার্কিট। গাড়ির ড্যাশবোর্ড বা ইঞ্জিনের সুইচ কন্ট্রোলারের আশপাশে জিপিএস ট্র্যাকার সংযুক্ত করা যায়। গাড়ির কোনো তার না কেটেও গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করা যায়। জিপিএস ট্র্যাকার মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জিপিএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে তথ্য পাঠায়। ব্যবহারকারী খুদে বার্তা, অ্যাপ অথবা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গাড়ির বর্তমান অবস্থান জানতে পারে।

ট্রাকে জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবহন ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে। পণ্যের মালিক যে কোন সময় এটি ব্যবহার করে পণ্যের অবস্থান জানতে পারবে। ট্রাক মালিকরাও ট্রাকের অবস্থান সম্পর্কে অবগত থাকবে এবং যাত্রাপথে ট্রাকের কোন সমস্যা হলে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে।

পণ্যবাহী কাভার্ড ভ্যান থেকে হাইওয়েতে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় ১৩ ই জুলাই বিজিএমই এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিজিএমই এর সভাপতি হাইওয়েতে পণ্য চুরি ও হাইজ্যাক হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে। সভাশেষে স্বরাস্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রত্যেকটি পণ্যবাহী গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু থাকতে হবে। যাতে গাড়ির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে মালিক পক্ষ। এছাড়া গাড়িতে ট্র্যাকিং সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে হাইওয়ে পুলিশ কোনো কাভার্ড ভ্যানে ট্র্যাকিং সিস্টেম না থাকলে হাইওয়েতে উঠতে দিবে না। 

জিম- ডিজিটাল ট্রাক, ট্রাক ভাড়া দেওয়া ও নেওয়ার অনলাইন প্লাটফর্ম। জিমের নেটওয়ার্কের আওতায় বর্তমানে ১৮ হাজারের অধিক নিবন্ধিত ভেরিফাইড ট্রাক আছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ট্রাকে জিপিএস ট্র্যাকার ব্যবহার করা হয়। পার্টনাররা চাইলে জিমের মাধ্যমে সহজেই তাদের ট্র্যাকে জিপিএস ট্র্যাকার ইনস্টল করাতে পারেন। জিমের বর্তমান ধারণ ক্ষমতা ২ লক্ষ টনের বেশি। “পণ্য পরিবহনে প্রযুক্তি”- এই স্লোগানের উপর ভিত্তি করে দেশের পরিবহন শিল্পকে এগিয়ে নিতে এবং গ্রাহকের পণ্যের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে জিম।

তথ্যসূত্রেঃ প্রথম আলো এবং বিডি নিউজ ২৪

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।