একটি দেশের অর্থনীতির সাথে লজিস্টিকস সেবা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আর তাই লজিস্টিকস সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমেই অর্থনৈতিক গতি বাড়ানো সম্ভব। 

আজ মঙ্গলবার (২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এর আয়োজিত ‘লজিস্টিক্স ইস্যু অ্যান্ড চ্যালেঞ্জ ইন ক্রস-বর্ডার অব বাংলাদেশ’ নামক শীর্ষক এক ভার্চ্যুয়াল সেমিনারে লজিস্টিকস সেবা নিয়ে মন্তব্য করেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা।

তারা জানান, “দেশের অর্থনৈতিক গতি বাড়াতে লজিস্টিক সাপোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক ও রেলের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের এরি লজিস্টিক্স সাপোর্ট প্রয়োজন। রপ্তানি ও বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার সহযোগিতা করছে, কিন্তু এর সুনির্দিষ্ট কোন পরিকল্পনা নেই। রপ্তানির ক্ষেত্রে এক মন্ত্রণালয় থেকে অন্য মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ কম হয়, ফলে রপ্তানিতে বাধা তৈরি হয়।”

উক্ত সেমিনারে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, দেশের অর্থনীতির স্বার্থে আমাদের নিজেদের ইনডেক্স থাকা দরকার। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সহযোগিতা করতে হবে। 

আমরা নিজেদের শুধু সমালোচনা করি, কিন্তু এর মধ্যে অনেক ইতিবাচক দিক আছে, যেগুলো তুলে ধরা যায়। আমরা আগের তুলনায় এগিয়েছি তা যথেষ্ট নয়। রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের ভিয়েতনামের সঙ্গে তুলনা করা হয়। কিন্তু সেখানে যে খরচ লাগে ২৯০ ডলার আর আমাদের লাগে ৪শ ডলার।  একটি বিষয়ে তাদের খরচ ৩৭৩ ডলার আর আমাদের ৯শ ডলার প্রয়োজন হয়। আবার শিপমেন্টে আমাদের অনেক সময়ের প্রয়োজন যেখানে তারা কম সময়ে করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দেশের বন্দর বিষয়েও সমস্যা তৈরি হয়। পেট্রোপোল আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দর সেখানে এক মাস আগে বেনাপোলের অজুহাতে বন্ধ হলো। সেই সমাধান পেতে প্রায় তিন দিন সময় দরকার হয়। আবার রপ্তানির ক্ষেত্রে এক মন্ত্রণালয় থেকে আরেক মন্ত্রণালয়ে যেতে হয় এবং সেখানেও সভা যথাসময়ে হয় না।”  

তিনি জানান, দেশের অর্থনীতির স্বার্থে আমাদের সকলকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।

ড. জাইদি সাত্তার বলেন, “লজিস্টিক্স সেবার মান উন্নত হলে সকলের জন্য ভালো হবে। এছাড়াও, সড়ক ও রেলের সংযোগ আরও বাড়াতে হবে। পলিসি সাপোর্ট পেলে আরএমজি’র মতো আরও অনেক পণ্য রপ্তানি হবে। প্রয়োজনে ইনসেনটিভ দিতে হবে ও সেই সাথে রপ্তানিও বাড়াতে হবে।” 

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি জনাব মাহবুবুল আলম বলেন, আমাদের দেশে শিপটমেন্টের জন্য শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে যেতে হয়। ফলে এখানে সময়ের সমন্বয় হয় না।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে তবে লজিস্টিক্স সাপোর্ট সেই অনুযায়ী কম। এটাও নজরে রাখতে হবে। আমাদের এখানে প্রায় ১০ হাজার ট্রাক আসছে। অথচ কোন ট্রাক টার্মিনাল নেই। ফলে প্রায়ই দীর্ঘ যানজট দেখা দেয়। চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কে আটলেন করতে হবে ও রেলের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।” 

কাস্টমস কর্মকর্তা জনাব আকরাম হোসেন জানান, “শুল্ক ব্যবস্থা অটোমেশনে চলে গেছে। ফলে আমরা ছাড়পত্র দিলেও কানেক্টিভিটির জন্য সমস্যা তৈরি হয়। তাই একটা রোডের উন্নয়নে প্রায় তিন বছর লেগে যায়।” 

এই বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও গোছানো পরিকল্পনার প্রতি জোর দেন তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দর অথরিটির সদস্য জনাব জাফর আলম বলেন, বন্দরের কাজ শুধু কুলির মতো পণ্য আনা-নেওয়া করা। এর মধ্যে কি আছে তা জানা যায় না এবং কোনটির গুরুত্ব কি তাও জানা থাকে না। ফলে আমরা ওপরের আদেশের অপেক্ষায় থাকি। 

তবে, বন্দরের সক্ষমতা এখন অনেক বেড়েছে। ২০০৯ সালে যেখানে ১০ লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডেল করা হতো, এখন তা ৩০ লাখে করা হয়। 

ডিসিসিআইর সভাপতি জনাব শামস মাহবুবের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক সভায় প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অধ্যাপক সেলিম রায়হান। বক্তব্য রাখেন ড. এম মাসরুর রিয়াজ, সামির সাত্তার, ডিসিসিআইর সহ সভাপতি এন কে এ মবিনসহ প্রমুখ।

গুরুত্বপূর্ণ এই সভায় লজিস্টিকস সেবার সাথে বাংলাদেশের অর্থনীতি কতটা শক্তভাবে জড়িত তা ফুটে উঠেছে। আশা করা যাচ্ছে, অদূর ভবিষ্যতে লজিস্টিকস খাত আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

তথ্যসূত্রঃ বাংলানিউজ২৪.কম  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।