গত পর্বে আমরা দেখেছিলাম একজন লজিস্টিক/ট্রান্সপোর্ট ম্যানেজার কি কি ধরণের সমস্যায় পড়েন। আজ তারই ধারাবাহিকতায় আরও কিছু সমস্যা আপনাদের কাছে তুলে ধরবো। 

পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনা পৃথিবীর কোন দেশেই সহজ না। তাই একজন লজিস্টিক ম্যানেজার এই ক্ষেত্রে কাজ করার সময় অনেক বেশি জটিলতায় ভুগে থাকেন। আমাদের দেশে প্রায় সব স্থানেই স্বাভাবিকের চেয়ে জটিলটা তুলনামূলক বেশি এবং কাজের পদ্ধতি ডিজিটাল না হওয়ায় অনিশ্চয়তাও অনেক।  

চলুন পণ্য পরিবহন নিয়ে একজন লজিস্টিক ম্যানেজারের আরও কিছু নিত্য-নৈমিত্তিক সমস্যা দেখে নেই। 

যথাযথ সমন্বয়ের অভাব 

বাংলাদেশের পণ্য পরিবহন ক্ষেত্র অনেকটা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় এতে মালিক ও ড্রাইভারের সাথে যথাযথ সমন্বয় নেই। ফলে একজন লজিস্টিক ম্যানেজার তার অবস্থান থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করলেও অনেক ক্ষেত্রেই যথাসময়ে ট্রাকের ব্যবস্থা করতে পারেন না। নির্দিষ্ট কোন প্ল্যাটফর্ম না থাকায় সবার সাথে আলাদা আলাদা করে যোগাযোগ করতে হয়, যা খুবই সময়সাপেক্ষ।     

পেশাদারিত্ব 

অনেক সময় ছোট ছোট এজেন্সি বা ট্রাক মালিক তাদের পেশাদারিত্ব ধরে রাখতে পারেন না। বড় ফার্মের একজন লজিস্টিক ম্যানেজার হিসেবে আপনি যে ধরণের সার্ভিস আশা করছেন তা হয়ত তাদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব না। কিন্তু আপনাকে এরপরেও সার্ভিস নিতে হবে, কারণ আপনার হাতে বিকল্প সমাধান নেই। 

অনিয়ন্ত্রিত মার্কেট 

আমাদের দেশে পণ্য পরিবহন খরচ প্রায়ই ওঠানামা করে। অনেক সময় নির্দিষ্ট একটি ট্রাক স্ট্যান্ডে বিড রেট বেড়ে যায়। ফলে লজিস্টিক ম্যানেজার বাজার মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ট্রাক ভাড়া পান না। 

সম্পর্কে টানাপোড়ন  

একজন লজিস্টিক ম্যানেজারকে ট্রাকে পণ্য লোড হওয়া থেকে শুরু করে পণ্য আনলোড হওয়া পর্যন্ত যুক্ত থাকতে হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার মাঝে অনেকগুলো ধাপ আছে যেখানে তিনি শক্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন। যেমন- 

উপরোক্ত সমস্যাগুলোর ফলে অনেক ক্ষেত্রেই ট্রান্সপোর্ট মালিক, ট্রাক মালিক ও কাস্টমারের সাথে সম্পর্কে টানাপোড়ন দেখা যায়। যেটা একজন লজিস্টিক ম্যানেজার কখনোই আশা করেন না। কারণ তাদের সবাইকেই একটি প্ল্যাটফর্মে একসাথে কাজ করতে হয়। 

চলমান এই সমস্যাগুলো থেকে কিভাবে উত্তরণ পাওয়া সম্ভব তার বিস্তারিত আসছে আগামী পর্বে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।