আজ সকাল থেকে ডাকা এক পরিবহন ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানসহ মোট ১২টি জেলায় যাত্রী ও পণ্যবাহী সব ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আগেই বেঁধে দেওয়া ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা পার হওয়ায় আজ রোববার ভোর ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘট শুরু করেছে গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ। প্রধান সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হয়রানি ও চাঁদাবাজি বন্ধের লক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। তাই বেঁধে দেওয়া সেই সময় গতরাতে শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে আজ সকাল থেকে এই ধর্মঘট শুরু হয়। 

তাদের বেঁধে দেওয়া নয় দফা দাবি মেনে নিতে গত ৪ সেপ্টেম্বর একটি সংবাদ সম্মেলন করে এই সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সংগঠনটি। তবে এর মধ্যে প্রশাসন তেমন কোন সাড়া দেয়নি। তাই আজ ভোর থেকেই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।  

আরও জানা যায়, প্রায় সব ধরণের সড়ক যোগাযোগ পুরোপরি বন্ধ করে দেওয়ায় ফলে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের প্রায় ১৬টি রাস্তায় কোনো যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী গাড়ির দেখা যায়নি। এতে করে স্থানীয় সাধারণ মানুষজনও বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন। 

গণ ও পণ্য পরিবহন মালিক ঐক্য পরিষদ সূত্র থেক জানা যায়, গণ পরিবহন ও পণ্য পরিবহনের কাগজপত্র হালনাগাদ করার জন্য জরিমানা মওকুফ করা ও কাগজ যাচাইয়ের নামে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত দ্বারা যত্রতত্র জরিমানা বন্ধ করতে হবে। পুলিশের গাড়ি রিকুইজিশন বন্ধ করতে হবে ও যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত ছাড়া অন্য গাড়ি ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানো যাবে না। 

মালিক ঐক্য পরিষদ থেকে আরও জানা যায়, রেকার ভাড়া আদায় না করা ও অননুমোদিত গাড়ি চলাচল ও চাঁদাবাজির টোকেন প্রথা বন্ধ করতে হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্থাপিত হয়েছে ওয়ে স্কেল। এই ওয়ে স্কেল পরিচালনার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে এবং পুরো দেশে একই নিয়মে ওয়ে স্কেল চালুর দাবি জানানো হয়। 

ধর্মঘটের কারণে সড়কে গাড়ি চলাচলও কম। এই সুযোগে সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশা ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে। ফলে চাকুরীজীবী, সাধারণ পথচারী ও শিক্ষার্থীদের বেশ দুর্ভোগে পড়তে হয়।    

তথ্যসূত্রঃ ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।