দেশের বৃহত্তম চট্টগ্রাম বন্দরে বেশ কিছু বছর ধরে পড়ে আছে হাজার হাজার ধ্বংসযোগ্য কার্গো, কনটেইনার ও বাল্ক। এর সাথে আরও রয়েছে ৪৩৯ টি অবিক্রীত গাড়ি। সম্প্রতি আমাদের চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এইসব অবিক্রীত জিনিসপত্র নিলামে তুলে বিক্রি করার জন্য এবং ব্যবহারের অযোগ্য পণ্য ধ্বংস করার অনুরোধ জানিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে চিঠি পাঠিয়েছে। 

চিঠিতে আরো উল্লেখ রয়েছে, আনুমানিক ৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকা পাওয়া যাবে এইসব পড়ে থাকা জিনিসপত্র নিলামে বিক্রি করলে। 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কয়েকবার তাগাদা দেওয়ার পর, গেল সপ্তাহে ২০৩ টি কনটেইনার পর্যায়ক্রমে  ধ্বংস করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। কিন্তু উদ্যোগ নেয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা গাড়ি এখনো বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। 

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার জনাব ফখরুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এরই মধ্যে বন্দরে পড়ে থাকা ২০৩টি কনটেইনার ধ্বংস করেছি। ভবিষ্যতে বন্দরে পড়ে থাকা আরো অপ্রয়োজনীয় পণ্য ধ্বংসের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন ‘বন্দরে পড়ে থাকা কারনেট সুবিধায় আনা অবিক্রীত গাড়ি প্রতি শনিবার নিলামে তোলা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত ন্যায্য দাম পাওয়া যায়নি। তিন কোটি টাকার গাড়ির দাম বলা হয় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা। এত কম দামে বিক্রি করা হলে সরকারের বড় অঙ্কের ক্ষতি হয়ে যাবে। আরো দাম বাড়াতে চেষ্টা করা হচ্ছে।’

কমিশনার আরো বলেন, যেসব গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে আছে তা কম শুল্ক দিয়ে আনা হয়,  আমদানিকারকদের প্রকৃত শুল্ক পরিশোধ করে ছাড় করাতে বলা হলেও তারা তা না করে উল্টো মামলা করেছেন। যতদিন পর্যন্ত মামলা নিষ্পত্তি না হবে পড়ে থাকা এই গাড়িগুলো বিক্রি করা সম্ভব হবে না। চিঠিতে আরো উল্লেখ আছে, ২০ বছরের ব্যবহারের অযোগ্য এবং পুরনো পণ্য পড়ে আছে এই বন্দরে। 

গেল বছরের ৬ আগস্ট নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর মধ্যে অনুষ্ঠিত সভায় চট্টগ্রাম  বন্দরে পড়ে থাকা গাড়ি নিলামে তোলা এবং অবিক্রীত পণ্য বিক্রি করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠিয়ে অনুরোধ করা হয়েছে ধ্বংসযোগ্য কার্গো ও বিস্ফোরক-জাতীয় পণ্য, কনটেইনার, অন্যান্য  নিলামযোগ্য পণ্যের নিলামে বিক্রি করা ও ধ্বংসকার্য খুব দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য।

চট্টগ্রাম বন্দরে যেসব পণ্য পড়ে আছে তার একটি বিশদ তালিকা দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে এক হাজার ৬০১ টনের পাঁচ হাজার ৩৪৮ প্যাকেজের বাল্ক কার্গো, তিন হাজার ৭৬১ টনের ৭০ হাজার ৮৬৮ প্যাকেজের এলসিএল কার্গো, ৫০ হাজার ২০ টন ওজনের ৪০ এফসিএল ওজনের কনটেইনার, ৩৫ হাজার ৪৪০ টন ওজনের দুই হাজার ২১৫ বক্সের ২০টি এফসিএল কনটেইনার, ৮৭৮ টন ওজনের ৪৩৯টি গাড়ি। আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুতই এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

তথ্যসূত্রঃ দৈনিক কালের কণ্ঠ  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।