বেশ কিছুক্ষণ মোবাইলে রিং বাজার পর কবির সাহেব ফোন ধরলেন। অপর প্রান্ত থেকে কথা শুধু শুনে যাচ্ছেন। চেহারায় স্পষ্ট বিরক্তিভাব ফুটে উঠেছে। শুধু “আচ্ছা” বলে ফোনটা রেখে দিলেন তিনি। তার ৬টি ট্রাক আজও মাল নামিয়ে দিয়ে খালি ফেরত আসছে।  

কবির সাহেবের একটি ফ্লওয়ার মিল আছে। দীর্ঘ এক যুগ ধরে তিনি এই ব্যবসা করছেন। নিয়মিত তার ট্রাক মালামাল নিয়ে খুলনা থেকে যশোর, ফরিদপুর, বোয়ালমারী ও সাতক্ষীরা যায়। কিন্তু ফেরার পথে সব খালি আসে। ফলে লাভটা তিনি যেভাবে আশা করেন সেভাবে হয় না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে উল্টো লসও গুনতে হয়। 

কবির সাহেব মাঝে মাঝেই ভাবেন, কিভাবে এই সমস্যা থেকে উত্তরণ পাওয়া যায়। দেশের যেকোন প্রান্তে ট্রাক যাবে পণ্য নিয়ে আবার ফিরে আসার সময় ট্রিপও পাবে। কোন একটা আশ্চর্য উপায়ে যদি এই সমস্যা সমাধান হয়ে যেত, তাহলে কতই না ভালো হতো। 

কবির সাহেবের ভাবনা কল্পনাতেই থাকে। এরই মধ্যে একদিন তার অফিসে ফোন করেন জিমের খুলনা বিভাগের একজন প্রতিনিধি। তিনি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ট্রাকের ট্রিপ পাওয়া যাবে এই সংক্রান্ত কথা বলেন। কবির সাহেব সাক্ষাৎ করে বিস্তারিত কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলে জিম খুলনা ইউনিটের রিজিওনাল ম্যানেজার তার অফিসে যান। জিম কি, কিভাবে কাজ করে তা বুঝিয়ে বলার পর কবির সাহেব খুব অবাক হন। 

আসলেই কি মোবাইল অ্যাপ দিয়ে ট্রিপ পাওয়া সম্ভব!  

একটা ট্রিপ পেতে যে কি পরিমাণ কাঠ-কয়লা পোড়াতে হয় তা কবির সাহেব খুব ভালো করেই জানেন। আর সেই ট্রিপ কিনা পাওয়া যাবে মোবাইলেই। অবাক করা ব্যাপার!

তিনি মনে মনে যে আশ্চর্য উপায়ের কথা ভাবতেন এটাই হল সেই পথ। যেই পথে চললে তার আয়ের চাকা ঘুরবে আরও বেশি। জিম সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জেনে তার ৬টি ট্রাক রেজিস্ট্রেশন করান কবির সাহেব। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিনি জিমের ডিজিটাল সিস্টেমের সাথে অভ্যস্ত হয়ে উঠেন। ফলে এখন আর তার ট্রাক পণ্য নামিয়ে খালি ফেরত আসে না। ফিরতি পথে ট্রিপ নিয়েই আসে। 

কবির সাহেবের চেহারায় এখন আর আগের মতো বিরক্তিভাব থাকে না। জিম তাকে এনে দিয়েছে মানসিক প্রশান্তি।  

জিম এভাবেই পণ্য পরিবহনে প্রযুক্তি দিয়ে কবির সাহেবের মতো অনেককেই জটিল সমস্যায় সহজ সমাধান দিচ্ছে। 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।