বর্তমানে বাংলাদেশে পরিবহন খাতে উচ্চ ব্যয়ের ফলে পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যাচ্ছে যার ফলে ব্যবসায় মুনাফা কম হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বাংলাদেশে পরিবহন খাতে খরচ অনেক বেশি। পরিবহন খাতে অতিরিক্ত ব্যায়ের কারণে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়ছে। সম্প্রতি ‘মুভিং ফরোয়ার্ড:কানেকটিভিটি অ্যান্ড লজিস্টিকস টু সাসটেইন বাংলাদেশিজ সাকসেস’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনে এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ মাতিয়াস হেরেরা দাপে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটি সবার কাছে তুলে ধরেন। এছাড়াও, স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়ং টিমবন। 

বাংলাদেশের সড়কে তীব্র যানজট, জল ও স্থল বন্দরগুলোতে কাজের ধীরগতি, সরবরাহের খাতে উচ্চ ব্যয়, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, লজিস্টিক সেবা খাতে শৃঙ্খলার অভাবের ফলে পণ্য পরিবহনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত এসব বাধার কারণেই বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়ছে। 

মাতিয়াস হেরেরা, বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ তার উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন, অনিয়মের ফলে বাংলাদেশ স্বল্প মজুরির যে সুবিধা পেয়েছে, সেটিতে বেশ চাপ বাড়ছে। বাংলাদেশে মোট রপ্তানি পণ্যের ৮৪ ভাগই পোশাকনির্ভর। ফলে এই খাতে প্রতিবছর শ্রমিকের সংখ্যা কমছে প্রায় দেড় শতাংশ হারে এবং উচ্চ মজুরির জন্য চাপ বাড়ছে। 

এই সমস্যা পরিত্রানে ব্যবসার খরচ কমিয়ে আনতে লজিস্টিক খরচ কমাতে হবে। কারণ, এই খাতে বাংলাদেশের যে ব্যয় হচ্ছে, তা অন্য অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় বেশি।

প্রধান অতিথি ড. মসিউর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকার যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কাজ করছে। সড়কের পাশাপাশি নৌ ও রেলপথের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ভারতের আসামে পণ্য পরিবহনের জন্য ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে চলমান এই পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে। 

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পণ্য পরিবহনের সাথে জড়িত সকল বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বৃহত্তর সমন্বয়ের ভিত্তিতে মূল অবকাঠামোগুলির কার্যকর দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যবসায়ের পরিবেশ আরও উন্নত করতে পারবে। লজিস্টিক খাত যত শক্ত হবে বাংলাদেশ তত দ্রুত উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে।  

তথ্যসুত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক, দ্য ডেইলি স্টার 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।